গ্রামীণফোন, গ্রে ও মীমের ৫টি বিজ্ঞাপন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বাংলাদেশে টেলিকম ইন্ড্রাস্ট্রির সবচে বড় অপারেটর– গ্রামীণফোন। বাংলাদেশের শতভাগ মানুষই জিপির নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতাধীন এখন। গ্রাহক সেবার পাশাপাশি, গ্রাহকদের জন্য নিত্য-নতুন অফার বা ক্যাম্পেইনও চালু করে জিপি নিয়মিতই। আর ক্যাম্পেইনের জন্য বিজ্ঞাপনের বাজেটও অনেক বড়। সেই প্রথম থেকে জিপির বিজ্ঞাপনগুলোও খুব হিট হয়েছে সবসময়। একেক সময়, একেক এজেন্সি হয়তো বিজ্ঞাপনগুলোতে কাজ করলেও, জিপির বিজ্ঞাপনের মান সবসময় একটা আপ-টু-দ্য-মার্ক থেকেছে। হয়তো এজেন্সি পাল্টেছে, ডিরেক্টর পাল্টেছেন। কপি রাইটার পাল্টেছেন। মডেল পাল্টে গেছেন। কিন্তু জিপির প্রতিটি বিজ্ঞাপনই গ্রাহকদের ভেতর উত্তেজনা বা ফূর্তি  তৈরি করেছে প্রচারের সময়। এসব বিজ্ঞাপনের বেশ কয়েকটার মডেল ছিলেন লাক্স-চ্যানেল আই বিজয়ী বিদ্যা সিনহা সাহা মীম। এর মধ্যে ২০১৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দুটি। ২০১৬ সালের জিপির থ্রি-জি নেটওয়ার্কের ক্যাম্পেইনের জন্য নির্মিত হয়েছিল ৩টি। সব মিলিয়ে জিপি ও মীমের যুগল এই ৫টি কাজে চোখ বুলাতে চাই আজ। প্রতিটি টিভিসিতেই মীমের অভিনয় ছিল অসাধারণ। অনন্য এই ৫টি টিভিসি প্রচারের সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তাও হয়েছিল।

৫টি টিভিসির স্টোরিতে মিল না থাকলেও, মজার বিষয়, এজেন্সি কিন্তু একটাই– গ্রে। এরমধ্যে ৪টার ডিরেক্টর হলেন, আদনান আল রাজীব। আর ১টার ডিরেক্টর হলেন পিপলু আর খান। তার মানে ২০১৪-এর বিজ্ঞাপনের সাফল্যই হয়তো, গ্রে-মীম-আদনান আল রাজীবকে পুনরায়, একইসাথে কাজ করিয়ে নিয়েছে। টিভিসি ৫টা ভিন্ন সময়ে ভিন্ন স্টোরিতে নির্মিত হলেও, অাইডিয়া খুব অসাধারণ। এখানকার পারিবারিক আবহাওয়ায়, দুইবোনের খুঁনসুটি বা নতুন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের রসায়ন কিন্তু এই রকমই।

গাউসুল আলম শাওন, চীফ ক্রিয়েটিভ অফিসার, গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেড

এই টিভিসি ৫টির সাফল্য বোধহয় এখানেই যে, এগুলো আমাদের নিজেদের গল্প বলতে চায়। নিজেদের জীবনযাপন ভঙ্গিকে এক্সপ্লোর করতে চায়। কোনো আরোপিত দাঁড়িকমা নেই। সহজ ও ঝরঝরে জীবন অাছে। জীবনের ভিতর সর্ষেফুলের মতো লুকিয়ে থাকা আনন্দ, প্রেম ও মধু আছে।

আর ডিরেক্টরকে তার অনবদ্য কাজের জন্য, মুন্সিয়ানার জন্য, অভিবাদন জানাতেই হবে।

১.

দুই বোনের খুঁনসুটি

২০১৪ সালে নির্মিত এই টিভিসিতে মীমকে দ্বৈত-চরিত্রে দেখা যায়। দুই বোনের খুনসুটির মধ্য দিয়ে জিপির বোনাস অফারের ক্যাম্পেইনটি তুলে ধরা হয়।  প্রথমেই যেটা নিয়ে বলা হচ্ছে, সেই  বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হয়, ‘টার্গেটেড টাকা ব্যবহারের পর, যত টাকার কথা, তত টাকার বোনাস’ ক্যাম্পেইনের জন্য।

গল্পটা বাংলাদেশের। পিঠাপিঠি দুই বোন আছে  এমন পরিবার অজস্র পাওয়া যাবে শহরে, গ্রাম। দুই পিঠাপিঠি বোনের গল্প। ছোটোটা আবার দুরন্ত  ডানপিটে। অার বড়টা শান্ত, লক্ষ্মী খুব। ছোটো বোন পড়ালেখা করে। আর বড়বোন জব। ছোটোটা আবার স্কুটি চালায়। কিন্তু তার টইটই করে ঘোরার তেল পাবে কই? তেল দেবে গৌরী সেন? সহজে না দিলে জোর করে নিতে হবে। ছোটোবোনকে তাই করতে দেখা যায় টিভিসিতে। জবরদস্তি করে বোনের পার্স  থেকে, টাকা নেওয়া। আবার বড়বোন যখন অফিস যাবার জন্য সিএনজি পায় না। তখন ছোটজন তাকে লিফটও দেয়। এমন গল্প দিয়েই, একটা মমতা ও মায়াময় গল্পের ভিতর দিয়ে স্টোরিটা শেষ হয়।

দুইবোনের চরিত্রেই অভিনয় করেন মীম। মীমের অভিনয়  সিম্পল ও দুর্দান্ত। মনকাড়া। আর এই টিভিসিটা বানিয়েছিলেন  বিখ্যাত নির্মাতা পিপলু আর খান।

…………………………………………….

বড়বোন : চিন্তা করে দেখ, পাহাড়ের নিস্তব্ধতা, রাতের মৃদু হাওয়া আর জোছনার স্নিগ্ধ আলো…      ছোটোবোন :  এগুলা সব একসাথে মেখে মুড়ি দিয়ে খা। [বিরক্ত হয়ে কথাটা বলবে!]
বড়বোন : চল না
ছোটবোন : উফ, যা তো…

বড়বোনের জোছনা-বিলাস রিলেটেড আহ্লাদ আর ডানপিটে ছোটজনের বিরক্তি দিয়ে টিভিসিটা শুরু হয়। প্রথমে ছোটবোন পাত্তা না দিলেও, পরে ঠিকই যায় ঘুরতে। একলা একলা বড়টা ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে। রাত্রে বনের ভিতর ঢুকে যায় সে। মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে চারপাশ। হঠাৎ সামনের ঝোঁপে কিছু একটাকে নড়ে উঠতে দেখে, আঁতকে ওঠে। ভয় পায়। সঙ্গীদের ফোন দিতে গিয়ে দেখে, মোবাইলে নেটও নাই। তখনি, ত্রাতা হিসেবে হাজির হয় ছোটটা।

আর বলে যে, ’উহ, এক মুঠো সহস আর আধ চিমটি নেটওয়ার্ক নিয়ে উনি আসছেন জোছনা-বিলাস করতে!’ আর এভাবেই ‘বন্ধ সিম চালু করে, ১৪ টাকা রিচার্জে থ্রিজি ইন্টারনেট ও ২০০০টি ফ্রি এসএমএস আর টার্গেট অ্যামাউন্ট পূরণ করতে পারলে ১০০% পর্যন্ত বোনাস’ ক্যাম্পেইনের টিভিসিটা শেষ হয়। মীমের এক্সপ্রেশন, অভিনয়, এতই সুন্দর যে, অবাক হয়ে দেখতে বাধ্য হবেন আপনি। আর এই টিভিসিটা বানিয়েছিলেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব।

২.

৭ দিনের স্বাধীনতা

বাকি তিনটি বিজ্ঞাপন মূলত  সিরিজ বা ধারাবাহিক আকারে প্রচারিত হয়েছে। মানে ৩টি পর্বে ১টা গল্প শেষ হয়। গল্পটার চরিত্র তরুণ স্বামী-স্ত্রী। ১ম পর্ব শুরু হয়, মেয়েটার বান্দরবন যাত্রা দিয়ে। ২য় পর্বে দেখা যায় মেয়েটা রাত্রে ভয় পেয়ে ঘুম ভেঙে গেছে। ভিডিওকলে স্বামীর সঙ্গ নেয় মেয়েটা। ৩য় পর্বে মেয়েটাকে ব্যস্ত দেখা যায়, ফটোগ্রাফিতে। আর বধূ-বিহনে বিষণ্ন স্বামী ৭ দিনের স্বাধীনতা বা বিরহের চাপ সামলাতে না পেরে, নিজেই হাজির হয়।

টানটান গল্প। এক পর্ব হতে আরেক পর্বের জাম্পও অসাধারণ। কোথাও ঝুলে যায়নি। বরং ৩টি পর্ব পরপর দেখলে, অপেক্ষার বিষয়টা টের পাওয়া যায়! মানে ১ম পর্ব দেখলে, ২য় পর্ব অনুমান করা যায় না। তবে ১টার পর আরেকটা পর্ব দেখার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।

টিভিসি ৩টায় মীমের সাথে কাজ করেছে আরেক হাটথ্রুব– তাহসান। দুজনেই খুব সাবলীল ও অসাধারণ অভিনয় করেছেন। স্ক্রিপ্ট অসাধারণ। ক্যামেরা ও পরিচালনাও দুর্দান্ত।

এই বিজ্ঞাপন ৩টা মূলত জিপির পাওয়ারফুল থ্রিজি নেটওয়ার্কের। ‘যত দূরেই যান, ভালোবাসায় দূরত্ব বাড়বে না’ শিরোনামের বিজ্ঞাপন ৩টি দর্শকদের মনে থাকবে দীর্ঘদিন।

Share.

About Author

টিম ওয়াটারমেলন

। ক্রেজি, ক্র্যাকড ও ক্রিয়েটিভ একদল তরুণের গ্যারেজ।

Leave A Reply

error: Content is protected !!