কুংফুর প্রতি প্রেম অথবা তারসীমের কাজ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

পাহাড়ের আশ্রমগুলো যেমন হয়। অনেক উঁচুতে আশ্রম। আর মাঝে অনেকগুলো ধাপ। প্রাচীন পাহাড়ের গা বেয়ে, কুংফুবুড়োর আস্তানায় এসে নক করে এক ভুবন-শিশু! বুড়ো বা ওস্তাদ অবাক হলেও তাকে ফেরায় না। গুরুরা তো এমনই হয়। সদাশ্রয়! নির্মল। অন্য গোত্র বা জাত থেকে চলে আসা এই ছেলে তো, যতই কুংফুর প্রেমে পাগলপারা হোক না কেন, তার জন্য এই জগত তো কঠোর ও রূঢ় এক রূপকথা। কুংফু শেখা শুরু হলে, শিষ্যের প্রতি গুরু নিজেকেও নিবেদন করে। কিন্তু, নতুন ভুবনের এই শিশু না পারতে পারতে একদিন পেরেই ফেলে।

…মনে হচ্ছিল,
জীবনে কত কত
তরঙ্গ থাকে, বিপুলা
এই পৃথিবীর
পেটে…

তার বয়েস বাড়ে। তারপর সকল শিষ্যের সম্মেলনে সে তার প্রেমের পরীক্ষা দিতে বসে। সে যখন সফল দীক্ষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, গুরু তাকে পেপসির ক্যান দেয়। সবাই মিলে পেপসি খাবার এক পর্যায়ে নতুন এই তরুণ দেখে, গুরু-সহ আর সকালের কপালে যে তীলক আঁকা, এই তিলক তো তার নেই! সে তখন ক্যানের মুখায়বে, সেই তীলক খুঁজে পায়। আর দেরি না করে, নিজেকে কুংফু প্রেমে উৎসর্গ করেছে বলেই, কৃত্তিমভাবে হলেও এই তীলকের অধিকারী সে হয়ে উঠে!

২.

ভিডিওটি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, জাপানি কোনো জেন-কবিতা পড়ছি। মনে হচ্ছিল, বাশো-ই যেন নিজে কবিতা শোনাচ্ছেন। বলছেন–

 old pond
frog leaps in
water’s sound

এতই মধু ও নির্মল! এতই নিমগ্ন সুবাস এই ভিডিওতে! আবার কখনো মনে হচ্ছিল, কিম কি দুকের স্প্রিং সামার ফল উইন্টার অ্যান্ড স্প্রিং ফিল্মটির ২য় ভার্সন দেখছি! মনে হচ্ছিল, জীবনে কত কত তরঙ্গ থাকে, বিপুলা এই পৃথিবীর পেটে! ভিডিওর পুরো অনুভূতিটাই তৈরি করেছে দৃশ্যায়নের এই সৌন্দর্য ও পবিত্র এই মিউজিক! ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের এ টিভিসির পুরো সময়টাতেই এমন চাপ চাপ নীরবতা ও নৈবদ্য– কী করে প্রকাশ করি! ভিতরের উচ্ছ্বাসের ঝড় চললেও মানুষ বুঝি এইভাবে বোবা হয়ে যায়, এইটুকু বুঝতে পারি!

আর সবার অভিনয় কেমন, তা বলার দরকার নাই। পাঠক, আন্দাজ করে নিন।

 

৩.

টিভিসির ডিরেক্টর, তারসীম! পুরো নাম তারসীম সিং ধান্দোয়ার! জন্মগতভাবে পাঞ্জাবী। জন্মেছেন ১৯৬১ সালে। ইন্ডিয়ান-আমেরিকান এই তারসীম বিখ্যাত তার কমার্শিয়ালের কারণে। ফিল্ম বানিয়েছেন। যদিও ক্যারিয়ারের গোড়া-পত্তন হয়েছিল মিউজিক ভিডিও দিয়ে। এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে বাবার পথে হাঁটেননি, কিন্তু নাইকিকোকাকোলার মতন ব্র্যান্ডের জন্যই কেবল টিভিসি বানিয়েছেন ডজন খানেক। মার্সিডিজ বেঞ্জ, সনি এক্সপেরিয়ার জন্য-ও টিভিসি বানিয়েছেন! ২০০৩ সালে বানিয়েছেন পেপসির সবচে বেশি দৈর্ঘ্যের টিভিসি [৩ মিনিট ৭ সেকেন্ড]। গ্ল্যাডিয়েটর থিমের ওপর বানানো এই টিভিসিতে অভিনয় করেছেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স, পিঙ্ক ও বিয়োন্সি!

২৪ বছর বয়েসে হার্ভাডে গিয়েছিলেন ব্যবসা প্রশাসন পড়তে। কিন্তু ব্যবসা প্রশাসন ছাড়তে আর দেরি হয়নি, ভবিষ্যতের এই তারকা ডিরেক্টরের!

তারসীমের কাজে তাঁর নিজস্ব একটা ইমেজের জগতের ফূর্তি দেখা যায়! মানে ফিচার ফিল্ম থেকে শুরু করে, তারসীমের প্রতিটি কাজেই, এই ডিরেক্টর কথা বলেন, তাঁর নিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইলে!

দোহাই

১। http://www.artcenter.edu/about/alumni/alumni-stories/tarsem.html
২। https://en.wikipedia.org/wiki/Tarsem_Singh
Share.

About Author

টিম ওয়াটারমেলন

। ক্রেজি, ক্র্যাকড ও ক্রিয়েটিভ একদল তরুণের গ্যারেজ।

Leave A Reply

error: Content is protected !!