লাক্সের বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিকতা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রারম্ভিক

দিনকে-দিন ফুলে-ফেঁপে ওঠা অর্থনীতির কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। সাথে বাড়ছে মানুষের সৌন্দর্যবিষয়ক সচেতনতা! যে কারণে বড় শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামেও, সৌন্দর্য-সাবানের চাহিদা অনেক। আর এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের মার্কেট লিডার– লাক্স। আন্তর্জাতিক পণ্য লাক্স-এর উৎপাদন শুরু ১৯২৪ সালে। আর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু ১৯৬৪ সাল থেকে। আন্তর্জাতিক পণ্য হলেও, লাক্স একই মান বজায় রেখে উৎপাদিত হয় এ দেশে; আর মার্কেট শেয়ার প্রায় ৪৩ শতাংশ। প্রোডাক্টের কোয়ালিটি, দাম, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন কৌশল, লাক্সকে অন্যতর উচ্চতায় আসীন করে তুলছে ক্রমাগত।

যে কোনো প্রোডাক্টের সবচে বড় ফিচার– তার কোয়ালিটি। আর ব্র্যান্ডিং স্ট্র্যাটেজি এই কোয়ালিটিকে গ্লোরিফাই করে। মার্কেট শেয়ার নিশ্চিত করে। ক্রেতার সাথে পণ্যের মিথস্ক্রিয়া গড়ে দেয়। তৈরি করে সম্পর্কেরও। আর ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম টুলস হলো বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও বিজ্ঞাপন। এ গদ্যে আমরা লাক্স-নির্মিত টিভিসি নিয়ে বাতচিত করব। কালানুক্রমিকভাবে টিভিসি ধরে ধরে, আমরা এগোব। আর টিভিসি নামক এই ব্র্যান্ডিং-টুলসের মাধ্যমে লাক্স-এর অন্তরমহলের তালাশ করব, নিশ্চয়। আলোচ্য গদ্যে লাক্স-এর বিজ্ঞাপনের বিবর্তনটা অন্তত পাওয়া যাবে, আর এ সূত্রে তাদের ব্র্যান্ডিংয়ের কিছু খুটিনাটি সম্পর্কেও জানা যাবে, আশা করি।

…কোন মডেল
লাক্স-এর নতুন
পণ্য-দূত হলেন,
এ বিষয়েও, জনগণমনে
এক ধরনের রোমাঞ্চ
কাজ করে…

আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন-শিল্প নিয়ে আগ্রহী বলেই, আমরা বুঝতে পারি, লাক্স-এর বিজ্ঞাপনের সাথে বোঝাপড়া থাকা জরুরি। কেননা, ১৯৮৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত লাক্স তাদের টিভিসি বা ক্যাম্পেইনগুলোকে নিজস্ব একটি মাত্রায় তুলে ধরতে পেরেছে। যে কারণে লাক্স-এর প্রতিটি টিভিসিই চূড়ান্ত জনপ্রিয়। এমনকি কোন মডেল লাক্স-এর নতুন পণ্য-দূত হলেন, এ বিষয়েও, জনগণমনে এক ধরনের রোমাঞ্চ কাজ করে।

এ গদ্যে পণ্য-দূত বাছাই, টিভিসির থিম ও বিভিন্ন সময়ে নির্মিত টিভিসির আলোচনার মাধ্যমে লাক্স কীভাবে তার কার্যকর ব্র্যান্ডিং করে থাকে, তারই একটা চেহারা/পাঠ অনুকৃতি হাজিরের চেষ্টা করা হয়েছে। বোধকরি, আগ্রহীদের কাজে লাগবে।

 

লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডার বা মডেলগণ

১৯৮৩ সালটিকে এদেশের অ্যাড-এজেন্সি, মডেল ও একইসাথে লাক্স-এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে আমরা দেখতে চাই। কেননা এ বছরই প্রথম কোনো বাংলাদেশি স্টারকে লাক্স, তাদের পণ্যের দূত নির্বাচন করে। তখনকার হাটথ্রুব ও সেনসেশনাল চিত্রনায়িকা নূতন-ই ছিলেন লাক্স-এর প্রথম ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডার!  আর বিজ্ঞাপনে অপরূপা নূতনকে সৌন্দর্য চর্চায় আমি অত্যন্ত যত্নশীল। আর তাই আমি রোজ ব্যবহার করি, স্নিগ্ধ সুরভিত ইন্টারন্যাশনাল লাক্স! বলতে দেখা যায়।

নূতনের বছর তিন পর যাকে পণ্য-দূত হিসাবে বেছে নেয় লাক্স, তিনিও সিনে-ইন্ড্রাস্টির! তখন ১৯৮৬ সাল। দোয়েলকে দেখা যায়, লাক্স-এর নতুন অ্যাম্বাসেডার হিসাবে এবং সেই সাথে বিজ্ঞাপনে। এটাতে দেখা যায়, খুব নির্ভার দোয়েল কাঠমান্ডুতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! আর বলছেন, “আমার ত্বকের পরিচর্যার কাজটি আমি ছেড়ে দিয়েছি ইন্টারন্যাশনাল লাক্সের উপর। লাক্সের ঘন মোলায়েশ ফেনা, ত্বককে কোমল ও মসৃণ রাখে…।”

এই দুজনের পর, লাক্স অ্যাম্বাসেডার বেছে নেয় তখনকার আরেক তারকা সুবর্ণা মোস্তফাকে। সুবর্ণা তখন ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়। ততদিনে মুক্তি পেয়েছে ঘুড্ডি [১৯৮০], লাল সবুজের পালা [১৯৮১], নয়নের আলো [১৯৮৪] প্রভৃতি সিনেমা।  সেটা ১৯৮৭ সালের কথা।

…দূত বা মডেল বাছাইয়ে
আরও কিছু প্যারামিটার
নিশ্চয়ই ছিল, যে কারণে,
৮০’র চূড়ান্ত জনপ্রিয়
অন্জু ঘোষকে
লাক্স-এর বিজ্ঞাপনে
দেখা যায়নি…

বিভিন্ন সময়ে, লাক্স যাদের আম্বাসেডর হিসাবে বেছে নিয়েছে, তাদের নামগুলো দেখলেই, বুদ্ধিমান পাঠক বুঝে ফেলবেন, সময়ের জনপ্রিয় ও রূপসী তারকাটাকেই তারা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও দূত বা মডেল বাছাইয়ে আরও কিছু প্যারামিটার নিশ্চয়ই ছিল, যে কারণে, ৮০’র চূড়ান্ত জনপ্রিয় অন্জু ঘোষকে লাক্স-এর বিজ্ঞাপনে দেখা যায়নি [বেদের মেয়ে জোছনা (১৯৮৯) মুক্তি পাবার আগে থেকেই অন্জু ঘোষ জনপ্রিয় ছিলেন]। আর এই প্যারামিটারগুলোই লাক্স-এর মার্কেটিং কৌশলকে তুলে ধরে। ৮০’র আর্থসামাজিক কাঠামোর কথা ভাবলে, তা পরিষ্কার হবে। তখনকার সময়ে অর্থনীতি এমন ছিল না যে, গ্রামবাংলার বাসিন্দারা লাক্স ব্যবহার করবেন। আরবান বা সাব-আরবান এলাকা বাদে, সৌন্দর্য-সাবান ব্যবহারবিষয়ক অনুভূতি বা ক্রয়-ক্ষমতা– কোনোটাই তৈরি হয়নি তখন! এজন্যই, মাস-পিপলের কাছে জনপ্রিয় অন্জু ঘোষের [পড়তে পারেন মমতাজের নামটিও!] চেয়ে, আরবান বা সেমি-আরবানদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য নূতন-দোয়েল ও সুবর্ণা মোস্তফা লাক্স-এর কাছে অধিক পছন্দসই হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালেও লাক্স-এর ব্র্যান্ড-অ্যাম্বাসেডর বা মডেল হিসাবে যাদের দেখতে পাই– তারাও যে শহুরে উচ্চ ও মধ্যবিত্তের রুচিশীলতার কাছাকাছি থাকা তারকা, এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠার কোনো সুযোগ নাই।

সুবর্ণার পর চম্পাকে বেছে নেয় লাক্স। ১৯৯১ সালে চম্পার পর, লাক্স দুজন তারকাকে বেছে নেয়, যাদের কর্মক্ষেত্র অভিনয় নয়। একটু ভিন্ন। আবার ক্ষেত্র অভিনয় না হলেও, ওই সময়ে তারা অভিনেতাদের চেয়ে বেশিই জনপ্রিয় ছিলেন, বলা যায়! তারা হলেন– গানের শাকিলা জাফর আর নৃত্যের নীপা। লাক্স-এর বিজ্ঞাপনচিত্রে তাদের দুজনকেই দেখা যায় একই বছর– ১৯৯২ সালে! এরপর পর্যায়ক্রমে দেখা যায়, মৌসুমী [১৯৯৩; লাক্স গ্রিন হার্বাল এক্সট্রাক্ট-এর বিজ্ঞাপন। কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার কারণেই মৌসুমীকে বেছে নেয় লাক্স], আফসানা মিমি [১৯৯৫; হানিক্যান সমৃদ্ধ নতুন লাক্স], মৌ [১৯৯৫], শমী কায়সার [১৯৯৫], বিপাশা হায়াত [১৯৯৮; গ্লিসারিন সমৃদ্ধ শাদা লাক্স ক্যাম্পেইন], পপি [১৯৯৯],  ঈশিতা [২০০০]। তারপরে দেখেছি অপি করিম [২০০৫; মিল্ক-ক্রিম উইথ অ্যালমন্ড অয়েল লাক্স], কুসুম সিকদার [২০০৫; মিল্ক-ক্রিম উইথ অ্যালমন্ড অয়েল লাক্স], মাহজাবীন, বিদ্যাসিনহা সাহা মিম [২০১৬; প্রিমিয়াম পারফিউমের নতুন লাক্স]।

জনপ্রিয়তাঅর্থে যে তারকা, এই নামগুলোর বাইরে কেউ আছেন কিনা, এই নিয়ে বাজি লাগা যায়! আর তারকাকেন্দ্রিক লাক্স-এর ব্র্যান্ডিংটাই তাদের কৌশল।  এ সম্পর্কে, লাক্স বাংলাদেশ-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “LUX® is the celebration of stardom, beauty, glamour and everything that is unapologetically feminine. Over 50 glorious years of operation in Bangladesh, it has redefined the way women perceive themselves by igniting the confidence to look and feel attractive everyday. And in that fabulous journey, the most beautiful and iconic stars of the country have endorsed the brand.”

 

ব্র্যান্ডিং-স্ট্র্যাটেজি, থিম বা ট্যাগলাইন

১৯৮৩ ও ১৯৮৬ সালে, ব্র্যান্ড-অ্যাম্বাসেডর হিসাবে লাক্স বেছে নিয়েছিল, তখনকার রমরমা বাংলা সিনেমার দুই সুন্দরী তারকা নূতন ও দোয়েলকে। ৮০’র দশকে বাংলা সিনেমার ভয়ানক জোয়ারের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই আপনার। তখন স্টার মানেই বাংলা সিনেমার নায়ক-নায়িকা। ফলে লাক্স-ও মডেল হিসাবে বেছে নেয়, নূতন ও দোয়েলকে। এছাড়াও বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইনেও, চিত্রতারকাদের প্রাধান্য দিয়েছিল লাক্স। ট্যাগলাইনটি ছিলো— ‘ইন্টারন্যাশনাল লাক্স— বিশ্বজুড়ে চিত্র তারকাদের সৌন্দর্য সাবান’। ট্যাগলাইন থেকেই ঠাহর করা যায়, সিনেমার জনপ্রিয়তাকে ব্র্যান্ডিংয়ের টুলস হিসাবে কাজে লাগিয়েছিলো লাক্স ও ইউনিলিভার।

তবে এর কিছুদিন পরেই, নতুন একটি থিমের উপর নির্ভর বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে লাক্স। ১৯৮৭ সালে নির্মিত সুবর্ণা মোস্তফার বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, ‘বিশ্বজুড়ে চিত্রতারকাদের সৌন্দর্য সাবান’ থিম হতে, ‘চিত্র’ শব্দটি ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর এতে করে লাক্স-এর জগৎটা আরো বড়ো হয়। ‘চিত্রতারকাদের’ বদলে লাক্স এভাবেই ‘বিশ্বজুড়ে’ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল ‘তারকাদের’ হয়ে উঠে।  এরপর টিভিসির ট্যাগলাইনে আরো একটা পরিবর্তন চোখে পড়ে। লাক্স ‘সৌন্দর্যসাবান’ শব্দবন্ধ হতে, ‘সৌন্দর্য’ শব্দটি পরিহার করে, ‘প্রিয়’ শব্দটা গ্রহণ করে।

…লাক্সের
ছোঁয়ায়
আমি
স্টার
হয়ে
যাই!…

১৯৯৫ সালে নির্মিত আফসানা মিমি, শমী কায়সার ও বিপাশা হায়াতের করা টিভিসিগুলোতে নতুন থিমের দেখা মেলে। দেখা যায় ‘সৌন্দর্য সূচনায় লাক্স’ শব্দবন্ধটিকে। আবার ১৯৯৯ সালে নির্মিত পপির বিজ্ঞাপনে পুনরায়, ‘বিশ্বজুড়ে তারকাদের প্রিয় সাবান’ ট্যাগলাইনটি ফিরে এসেছে দেখা যায়! ২০০০ এ করা ঈশিতার বিজ্ঞাপনে ‘লাক্স– আপনার স্বপ্নের সৌন্দর্য‘ বাক্যটা ব্যবহৃত হয় থিম হিসাবে। এটিও খুব অসাধারণ একটি বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠে। ২০০৫-এ কুসুম সিকদার ও অপি করিমের বিজ্ঞাপনে নতুন একটি ট্যাগলাইন দেখতে পাওয়া যায়। বলা হয়, ‘লাক্সের ছোঁয়ায় আমি স্টার হয়ে যাই!’ বিজ্ঞাপনটির সাথে সাথে থিমটিও খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

এরপর মাহজাবীনকে দেখা যায়, সোনাঝরা অপরুপা গানের সাথে সাথে, ‘ব্যাস, একটুখানি লাক্স’-এর  মোহন বিজ্ঞাপনে। মিউজিক ছিল অসাধারণ। মাহজাবীনকে তুলে ধরা হয়, অপরূপ এক নারীর রুপে। মাহজাবীনের পর দেখতে পাই, মিমের কাজটি। ২০১৬ সালে। এক অপরূপ অনুভূতি ছড়িয়ে দেয় এই মাস্টারপিসটি। কোনো ডায়লগ ছাড়াই, অসাধারণ নির্মাণ ও মিউজিকে গ্রেট হয়ে ওঠে। এটাতে ‘হারিয়ে যাও সময়ের সৌরভে’ বাক্যটি থিম বা ট্যাগলাইন হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

এভাবেই প্রতিটি টিভিসিতেই, নতুন থিম বা ট্যাগলাইনের মাধ্যমে লাক্স আসলে সৌন্দর্যের নতুন অর্থ উৎপাদন করতে চেয়েছে সবসময়। এতে করে বৈচিত্রও এসেছে। আর প্রতিবারই দেখা গেছে, বিজ্ঞাপনের সাথে সাথে, তাদের থিমটিও দর্শকরা গ্রহণ করেছে। ফলে থিমও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টিভিসির সাথে সাথে।

 

লাক্সের নতুন পথ

আগ্রহীদের সকলেরই জানা আছে, ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য লাক্স-এর ফোকাস থাকে স্টারদের দিকে। তিনি হতে পারেন টিভি বা সিনেমার স্টার! একটা নির্দিষ্ট সময়ের ক্রেজকে কাজে লাগাতে চায় লাক্স। প্রতিটি বিজ্ঞাপনেই তারা আসলে একজন স্টারকে, তার স্টারডমকেই তুলে ধরতে চেয়েছে। দেখা যায়, স্টারদের আলো ঝলমলে জীবন, তাদের সাফল্য, উচ্ছ্বাস! আর টিভিসিগুলোর টেক্সট থাকে এমন যে, তারকাদের স্টার-জীবনের অন্যতম নিয়ামক [প্রচল ধারণারই সমার্থক] তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য! আর এই বাহ্যিক সৌন্দর্য তৈরিতে লাক্স-এর ভূমিকা অপরিহার্য।

বোঝা যায়, লাক্স তার ক্রেতার কাছে, তারকাজীবন ও তাদের সাফল্যের সূত্র হিসাবেই পৌঁছাতে চায়। বা একজন সুন্দরী তারকাকে তার লয়্যাল ইউজার হিসাবে প্রদর্শন করতে চায়! যেন সেই তারকার যে বিশাল ফ্যানগোষ্ঠী বা ফলোয়ার– তাদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারে। প্রতিটি টিভিসির বেইজলাইনটাও কিন্তু একই থাকে। আর একটু নিবিড়ভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়, টিভিসিগুলোর কপিও একই ধাচের। আন্দাজ করে নেয়া যায়, এখানে এজেন্সি বা কপিরাইটারের খুব বেশি কিছু করার থাকে না। কেননা, স্টোরিলাইনের একটা বেইজ তাদেরকেই মানতেই হয়েছে। যদিও একটি টিভিসি থেকে আরেকটি টিভিসির দৃশ্যায়ন অনেক দূরত্বেই থেকেছে সবসময়!

… টিভিসিতে
মিম
মূলত অপার্থিব একটি চরিত্রে
অভিনয় করেন শুধু।
যার সৌন্দর্যও
অপার্থিব অনুভূতি
উৎপাদন করে…

কিন্তু ২০১৬ সালে করা বিদ্যাসিনহা সাহা মিমের টিভিসিটা যদি একটু খেয়াল করি, তাহলে চমকে যাব। খেয়াল করব, এই ভিডিওতে, তারকা মিম আসলে একজন তারকা হিসেবে উপস্থাপিত হননি। এখানে মিম একজন মডেল [অচেনা বা অজানাও হতে পারতেন]  সুন্দরী মডেল। বিজ্ঞাপনে তাকে এই মর্ত্যজগতের কেউ হিসাবে হাজির করা হয়নি। এই টিভিসিতে মিম মূলত অপার্থিব একটি চরিত্রে অভিনয় করেন শুধু। যার সৌন্দর্যও অপার্থিব অনুভূতি উৎপাদন করে। আর স্টোরির কারণেই এমন অদ্ভূত একটি লোকশন বাছাই করা হয়েছে, যা লাক্সের আগের কোনো বিজ্ঞাপনে কখনোই দেখা যায়নি। ১৯৮৩ সালে নির্মিত টিভিসি হতে শুরু করে, মিমের বিজ্ঞাপনের আগপর্যন্ত, যতগুলো টিভিসি লাক্স করেছে, তার কোনোটিতেই এ রকম দেখা যায়নি।

মিমের এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আমাদের আরও অনেক কথা বলতে হবে। বলতে হবে এ কারণে, বহুজাতিক সাবান হিসাবে লাক্স প্রতিটি বিজ্ঞাপনের ভাষা বা স্টোরিতে যে অর্থ ধারণ করতে চাইত, এটাতে সেই চাওয়া খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং এই টিভিসিতে লাক্স-এর যে আকাঙ্ক্ষা দেখি আমরা, সেখানে আন্তর্জাতিক লাক্স-এর স্বদেশযাত্রা বলেই মনে হয় আমাদের।লাক্সকে এই প্রথম এ দেশের শাপলা-শালুক ফোটা বিলে দেখতে পাই আমরা। ফলে অনেক ঘনিষ্ঠও মনে হতে থাকে। মনে হতে থাকে, লাক্স যেন এইবার, আরো অনেক বেশি জাতীয়তাবাদী হয়ে উঠতে চাচ্ছে। বড় হয়ে উঠতে চাইছে, বাংলাদেশেরই একটি স্থানীয় প্রোডাক্ট হিসাবে। আর এ কারণেই লাক্স-এর টিভিসির নতুন এই পথটি অনেক বেশি সুন্দর ও রোমাঞ্চকর! অনেক বেশি রোমান্টিক ও স্বার্থক!

 

উপসংহার

৫০-এরও অধিক বছর ধরে, যাত্রা এদেশে লাক্স-এর। দিনকে-দিন মার্কেটে তাদের শেয়ার ও দাপট বাড়ছেই। তিব্বত, মেরিল, কেয়া, অ্যারোমেটিক্স মার্কেটে থাকার পরেও, লাক্স-এর লয়্যালিটি বাড়ছেই। ৮০ বা ৯০ দশকের চে’ এখনকার অর্থনীতির অবস্থা অনেক ভালো। যে কারণে সৌন্দর্য বিষয়ক সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে বিক্রিও বাড়ছে! শুধুমাত্র শহরে-বন্দরে নয়,  গ্রাম-ইউনিয়ন পর্যায়েও এখন বিক্রির ঢেউ বাড়ছে। ফলে লাক্সকে আরবান ও সাব-অারবান মানুষজনদের সাথে সাথে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে ভাবতে হবে। এবং মিমের বিজ্ঞাপনের মতোই, এদেশের পণ্য হয়েই হাজির হতে হবে। আশা করি, মাস-পিপলের তারকাদেরও আমরা দেখতে পাবো অচিরেই লাক্স-এর টিভিসিতে/ক্যাম্পেইনে!

গণমানুষ তার প্রিয় পন্যের কাছে নিজের তারকাকে দেখতে চাইতেই পারে।


দোহাই:

১।  ‘Market Analysis of Lux’. http://www.assignmentpoint.com
২। Analyzing Bangladesh Scenario, Identify (Rice, Poultry, Soap, Garments, Mobile Phone) belongs to Which Market Structure and Why ’. Prepared by: Shamima Nasrin
৩। www.unilever.com.bd
৪। www.youtube.com
৫। ‘লাক্স বাংলাদেশ’-এর ইউটিউব চ্যানেল।

Share.

About Author

টিম ওয়াটারমেলন

। ক্রেজি, ক্র্যাকড ও ক্রিয়েটিভ একদল তরুণের গ্যারেজ।

Leave A Reply

error: Content is protected !!