মুহতার কান্টের উদ্ভাবন বিষয়ক ভাষণ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মুহতার কান্ট । কোকাকোলার সিইও ছিলেন ২০০৮ সাল হতে মে, ২০১৭ পর্যন্ত।  ২০১২ সালে কলোরাডো ইনোভেশন নেটওয়ার্ক সামিটের উদ্বোধনী ভাষণ দেন মুহতার কান্ট। কোকাকোলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে, সেই নোটটির ভাষান্তর করেছে টিম ওয়াটারমেলন


২৯ আগস্ট, ২০১২ এর কলোরাডো ইনোভেশন নেটওয়ার্ক সামিটের উদ্বোধনী ভাষণে মুহতার কান্ট বলেন, কোকোকোলার কাছে উদ্ভাবন ব্যাপারটা একটা জার্নির মতো। তিনি আরও বলেন, অনেক উত্তর আমরা জানি না, এমন কি অনেক প্রশ্নও অজানা, কিন্তু আমরা কমিটেড, চিন্তার নতুন কাঠামো, সমৃদ্ধির নতুন পথ ও ভ্যালু উদ্ভাবনের জন্য।

উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির সংস্কৃতি গড়ার জন্য, কান্ট মনে করেন, যে কোনো একটা কোম্পানির যা করতে হবে :

১। লাগাতার বিনোয়োগ

মার্কেটের প্রতিনিধিত্বশীল কোম্পানিগুলো সম্পদ, সময় ও স্ট্র্যাটেজি বিনোয়োগ করে থাকে। এমনকি অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে, যখন সারাবিশ্বের অন্য কোম্পানিগুলো তাদের প্রমোশনের খরচ কমাচ্ছিল, কোকাকোলার চেয়ারম্যান বরং তখন সে খরচ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আরও। রেজাল্ট কী এই বিনোয়োগের? খুবই পজেটিভ। মার্কেটে কোম্পানির এক্সপোজার বেড়েছিল আর ব্যবসাও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। একইভাবে, কোকের ২০২০ ভিশন অর্জনের জন্য ৩০ বিলিয়নের বেশি ডলার আগামী ৫ বছরে খরচ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টাকাটা খরচ হবে ব্র্যান্ড ও কোম্পানির সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে।  [ভিশন ২০২০ হলো আগামী এক দশকে কোম্পানির সাইজ দ্বিগুণ করা]

২। সারা পৃথিবী হতে বাঘা বাঘা মেধাবীদের বেছে আনা

বৈশ্বিক কোম্পানি হবার কারণে, সারা পৃথিবী হতে কোকাকোলা সেরাদের সেরাকে খুঁজে আনতে চায়। দেখো, কোকের লাতিন আমেরিকান একজন চাকরি করেছে এশিয়া অফিসে, ইউরোপিয়ানরা কাজ করছে দক্ষিণ আমেরিকায়, একইভাবে আফ্রিকান একজন চাকরি করে কোকের ইউরোপ অফিসে। এছাড়াও কোকের সদরদপ্তরে, পঞ্চাশেরও বেশি জাতির প্রতিনিধিরা কাজ করছে।

৩। কৌশলগত অংশীদারিত্ব

কোকাকোলা সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সিভিল সোসাইটির সহযোগে কাজ করে। আর এই সহযোগকে কান্ট বলেন, স্বর্ণাভ ত্রিভূজ [গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল]। পৃথিবীর নানান কোণের বিভিন্ন জটিল বাধা উৎরাবার জন্য এই তিনটি সেক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ। কান্ট আরও বলেন, স্বর্ণাভ ত্রিভূজের এই উদ্ভাবন সারা পৃথিবীতে ক্রমাগত বেড়ে উঠছে, ডানা মেলছে এবং অবিশ্বাস্য সব সুফল ঘরে তুলছে।

জরুরি ওষুধ সুলভ করে তোলার জন্য তানজানিয়াতে কাজ করছে কোকাকোলা। এজন্য কোক জোড় গড়েছে, দ্য গ্লোবাল ফান্ড, দ্য গেটস ফাউন্ডেশন ও হইয়েল হেলথ লিডারশিপ ইনস্টিটিউটের সাথে। বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, বেল কের্পারেশনের সাথে কোকের সহযোগ। আর এ দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করছে, ৯০ ক্যালোরির মিনি ক্যানের উন্নয়নের কাজে। কোকের সহযোগের অন্য আরেকটি উদাহরণের সেক্টর হলো, পানি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড, ইউএসএইড, দ্য নেচার কঞ্জারভেন্সি ও কেয়ারের সাথে ২৮৬টি সামাজিক পানি প্রজেক্টে কাজ করছে কোক। ২০০৫ সাল থেকে। ৯৪টি দেশে।

৪। উদারনীতি

তুমি আসলে জানো না পরবর্তী উদ্ভাবনের শুরুটা কোথায় হবে? নতুন আইডিয়া পৃথিবীকে মুহূর্তেই আলোড়িত করতে পারে। যে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে কোকাকোলা ৬টি রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট সেন্টার করেছে। উদ্দেশ্য– স্থানীয় ও আঞ্চলিক উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।  এমনকি কোকাকোলার বহুজাতিক, বহুসাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন বয়েসীদের সমন্বয়ে গড়া একটি ইনোভেশন কাউন্সিল আছে। এই কাউন্সিল ৩ মাস পরপর মিলিত হয়, সম্ভাব্য যে কোনো আইডিয়া নিয়ে বাতচিৎ ও উন্নয়নের জন্য।

৫। দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর নিরঙ্কুশ নজর রাখা

ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলো আসে ইনোভেশন ও সাসটেইনেভেলটির ছেদবিন্দু থেকে। আর এই ছেদবিন্দুতেই আমরা কাজ শুরু করি। কোকাকোলাও ওই ছেদবিন্দুতে মুভ করতে চায়।

কোকাকোলার জন্য সবচেয়ে যুগান্তকারী ছিল প্ল্যান্ট বোতল প্যাকেজিংয়ের আইডিয়া। যার কিছুটা অংশ প্ল্যান্টের কাচামাল থেকেই তৈরি করা হয়। আর এ কারণে প্রায় ৬০ হাজার ব্যারেলের মতো তেল কম লাগছে কোকাকোলার, ২০০৯ সাল থেকে।

কান্ট আরও দেখান, কোকাকোলার উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কের মালিকানায় ক্ষুদ্র পরিবেশন কেন্দ্রের মাধ্যমে শুধু আফ্রিকাতেই ১৯ হাজারের মতো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর বাৎসরিক রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, কোকাকোলার ভিশন ২০২০-এর মাধ্যমে ৫০ লাখ নারী উদ্যোক্তার ক্ষমতায়ন ঘটবে সারা পৃথিবীতে।

Share.

About Author

টিম ওয়াটারমেলন

। ক্রেজি, ক্র্যাকড ও ক্রিয়েটিভ একদল তরুণের গ্যারেজ।

Leave A Reply

error: Content is protected !!